কোন ভিটামিনের অভাবে রিকেটস রোগ হয় কারন,লক্ষণ এবং প্রতিকার

সুস্থ শরীর সুস্থ জীবন।

রিকেটস (Rickets) একটি শৈশবকালীন হাড়ের রোগ, যা মূলত ভিটামিন ডি(Vitamin D) এর অভাবের কারণে হয়। এই অভাবের ফলে শরীর ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস ভালোভাবে শোষণ করতে পারে না, যার ফলে হাড় নরম, দুর্বল এবং বিকৃতি হয়ে যায়। শিশুদের বাড়ন্ত হাড়ে এই সমস্যা দেখা যায় যা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওম্যালাসিয়া (Osteomalacia)নামে পরিচিত।

বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে রোধ প্রচুর থাকলেও শহরে জীবনযাত্রা, ঘরে থাকা, পর্দা বা সানস্ক্রিন ব্যবহার, অপুষ্টি এবং শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব বেশি দেখা যায়। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না করলে স্থায়ী হাড়ের বিকৃতি হতে পারে।

পোস্ট সূচীপত্রঃ কোন ভিটামিনের অভাবে রিকেটস রোগ হয়

  • রিকেটস কি?
  • রিকেটসের প্রধান কারণ(ভিটামিন ডি- ঘাটতির সাথে যুক্ত)
  • কাদের মধ্যে রিকেটস এর ঝুঁকি বেশি দেখা যায়
  • রিকেটসের কারণে জটিলতা সমূহ ও নির্ণয়
  • রিকেটসের লক্ষণ সমূহ
  • রিকেটস নিরাময় ও খাদ্য তালিকায় রাখা আবশ্যক
  • উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রিকেটস
  • প্রতিরোধের উপায়
  • শেষ কথা

কোন ভিটামিনের অভাবে রিকেটস রোগ হয়

ভিটামিন ডি-এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস (phosphorus) শোষণে সাহায্য করে। এই দুটি খনিজ হাড় শক্ত ও সুস্থ রাখার জন্য খুবই জরুরী। যখন ভিটামিন ডি কম থাকে, তখন-
  • অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস কম শোষিত হয়।
  • রক্তে ক্যালসিয়াম-ফসফরাসের মাত্রা কমে যায়
  • হাড়ে খনিজ জমা( mineralization) ঠিকমতো হয় না
  • ফলে হাড় নরম, বাঁকা, ভঙ্গুর হয়ে যায়
  • প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে একই সমস্যা হলে তাকে অস্টিওম্যালেশিয়া (osteomalacia) বলা হয়

রিকেটস কি

রেকেট শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত একপ্রকার হাড়ের অসুখ। এর জন্য শিশুদের হাড়ের বিকাশ সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হয় না। এর ফলে হাড়ের ব্যথা অনুভব হয়, স্বল্পবৃদ্ধি এবং হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায়। যার জন্য হাড়ের বিকৃতি দেখা দেয়। আবার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি মেলিয়া নামে অস্টিওম্যালাসিয়া পরিচত।রিকেটসে, শিশুদের হার নরম এবং দুর্বল হয়ে যায়।

 সাধারণত দীর্ঘকাল ধরে ভিটামিন ডি এর অভাবের কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রের রিকেটস এর সমস্যাটি শিশুদের মধ্যে চলে আসতে পারে। ভিটামিন ডি এ আপনার সন্তানের শরীরে খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণ করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি না থাকলে হাড় এবং দাঁতের সঠিক ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
 যা রিকেটস রোগের অন্যতম কারণ। যখন রিকেটস ভিটামিন ডি ছাড়া অন্য কারণে হয়, তখন আপনার সন্তানের অতিরিক্ত ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। রিকেটসের  ফলে হয়ে থাকা অস্থিবিকৃতি অনেক সময় অস্ত্র প্রচারের মাধ্যমে ঠিক করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অস্থির অন্যতম খুনের উপাদান ফসফরাস কম পরিমাণে থাকার জন্য অস্থির বিকৃতি হতে পারে। যখন হেরিডিটারি কারণে ফসফরাসের মাত্রা কম হয় তখন বিশেষ ধরনের ওষুধের প্রয়োজন হয়।

রিকেটসের প্রধান কারণ সমূহ(ভিটামিন ডি ঘাটতির সাথে যুক্ত)

  • সূর্যের আলো কম পাওয়া-সূর্যের UVB রশ্মি থেকে তোকে ভিটামিন ডি তৈরি করে(সবচেয়ে বড় উৎসব)
  • খাবারে ভিটামিন ডি কম(মাছের তেল, ডিমের কুসুম, দুধ/দই যদি না হয় fortified  না হয়)
  • শুধু মায়ের দুধ খাওয়া শিশু (breast milk- এ ভিটামিন ডি খুব কম থাকে)
  • গায়ের রং গাঢ় হলে সূর্য থেকে কম ভিটামিন ডি তৈরি হয়
  • লিভার/কিডনির সমস্যা(ভিটামিন ডি সক্রিয় করতে পারে না)
  • কিছু ক্ষেত্রে শুধু ক্যালসিয়াম বা ফসফরাসের অভাবেও(বিশেষ করে cereal-based খাদ্যাভাসে)
আপনার সন্তানের শরীরের ভিটামিন ডি খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। আপনার সন্তানের শরীরে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি না থাকে তাহলে তার রিকেটসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রধানত দুটি উৎস থেকে শিশুদের ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ হয়।

১. সূর্যালোক-আপনার সন্তানের ত্বক যখন সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে তখন ভিটামিন ডি তৈরি হয়। কারণ মানুষের ত্বক সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ করতে পারে। যদি আপনার শিশু পর্যব্রক্ত সূর্যালোক না পায় তাহলে সেক্ষেত্রে তার রিকেটস হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো নাও যেতে পারে।

২. খাদ্য-চর্বিযুক্ত মাছ, ডিম ইত্যাদির মত কিছু খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। আপনার সন্তান এইসব খাবার থেকেও ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ করতে পারে। তাই খাদ্যে এই উপাদান কম হলে রিকেটসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যেতেই পারে।

কাদের মধ্যে রিকেটসের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়

নবজাতক এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি এই রোগের ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে মায়ের বুকের দুধ পান করা শিশুরা। মনে রাখা দরকার যদি স্তন্যদাত্রী মাতা পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না পান তাহলে সে ক্ষেত্রে সেই মায়ের স্তন পান করা শিশুর মধ্যে কিন্তু জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পূর্বে জন্মগ্রহণ করা শিশুদের মধ্যে ও রিকেটসের ঝুকির পরিমাণ থাকে অপেক্ষাকৃত বেশি।

আবার যে সমস্ত শিশুরা বাইরে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না তাদের মধ্যে রিকেটস এর প্রবণতা বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে শীতকালে, এই সময় দিনের বেশিরভাগ সময়েই ঘরের জানালা বন্ধ থাকার দরুণ সেখান দিয়ে সূর্য রশ্মি ঘরে প্রবেশ করতে পারে না। শিশুর ত্বকের বর্ণ কালো হলেও তা রিকেটসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ ত্বক কালো হলে প্রয়োজনীয় পরিমানে ভিটামিন ডি তৈরি করার জন্য সূর্যের রশ্মি পর্যাপ্ত পরিমাণে শোষণ করতে বেশি সময় লাগে।

রিকেটসের কারণে জটিলতা সমূহ ও নির্ণয়

যেহেতু রিকেট শিশুর হাড়ের প্রান্তে গ্রোথ প্লেট ক্রোম বর্ধমান টিস্যুর অঞ্চলগুলিকে নরম করে, তাই এটি কঙ্কালের বিকৃতির কারণ হতে পারে। এর ফলে যে উপসর্গগুলি দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
  • নক নীজ, এক্ষেত্রে পাস রোজা থাকলেও হাঁটু গুলি কাছাকাছি থাকে। দাঁড়ালে মনে হয় যেন হাটু দুটো জুড়ে আছে।
  • মোটা কব্জি এবং গোড়ালির হাড় ফুলে যাওয়া (র‍্যাকিটিক রোজারি)।
  • বোওড লেগ বা ধনুকের মত বাঁকানো পা।
  • কস্টোকন্ড্রাল জয়েন্ট, এক্ষেত্রে রিবস বা পাঁজরের অস্থিগুলি কস্টাল কার্টিলেজের সাথে জুড়ে ঠেলে উপরের দিকে এগিয়ে থাকে।
  • মেরুদন্ড বাঁকানো।
অন্যান্য রোগের মতো রিকেটস নির্ণয়েরও বিভিন্ন উপায় রয়েছে। যদি আপনার সন্তানের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শারীরিক পরীক্ষা বা শরীরে দেখা দেয়া বিভিন্ন উপসর্গের ভিত্তিতে রিকেটস সন্দেহ করেন, তাহলে তারা নিম্নলিখিত এক বা একাধিক পরীক্ষার কথা বলতে পারেন যার ভিত্তিতে তিনি রোগটিকে চিহ্নিত করতে পারেন-
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • এক্স-রে
  • রক্ত পরীক্ষা
  • হাড়ের বায়োপসি(খুব কমই করা হয়)
  • জেনেটিক পরীক্ষা(উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রিকেটসের জন্য)

রিকেটসের লক্ষণসমূহ

লক্ষণ সাধারণত ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। প্রাথমিক লক্ষণ-
  • হাড়ের ব্যথা বা দুর্বলতা
  • বৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়া
  • দেরিতে হাঁটা বসা বা দাঁড়ানো
  • খিঁচুনি বা টিটানি(ক্যালসিয়াম কমে গেলে)
  • শিশুদের বৃদ্ধির হার খুবই কম হয়
  • মেরুদন্ড, শ্রোণী এবং পায়ে ব্যথা অনুভব হয়
  • পেশীর দুর্বলতা দেখা দেয়
  • অস্থিসন্ধি দুর্বল হয়ে যায়
প্রধান দৃশ্যমান লক্ষণ-
  • পায়ের বিকৃতি-বো-লেগ (Genu Varum-পা বাইরের দিকে বাঁকা) বা নক-নি(Genu Valgum-পা ভিতরের দিকে বাঁকা)
  • মাথা বড় হয়ে যাওয়া বা ফ্রন্টাল বসিং
  • বুকের পাঁজর বিকৃতি(র‍্যাকিটিক রোজারি,হ্যারিসন সালকাস-বুক ঢোকা)
  • খুলির হাড় নরম হয়ে যাওয়া (Cranitabes)।
  • পেট ফুলে যাওয়া(পট বেলি)
  • পিঠ বাঁকা(স্কোলিওসিস)।
  • দাঁত দেরিতে ওঠা বা দাঁত ক্ষয়।
  • গুরুতর ক্ষেত্রে হাড় ভেঙ্গে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা রক্তস্বল্পতা হতে পারে।

রিকেটসের নিরাময় ও খাদ্য তালিকায় রাখা আবশ্যক

সর্বদা নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ শ্রেয়। তাই রিকেটস প্রতিরোধ করার জন্য, নিশ্চিত করুন যে আপনার শিশু যেন প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খায়। চর্বিযুক্ত মাছ যেমন-স্যামনএবংটুনা, মাছের তেল এবং ডিমের কুসু্‌ম, কড লিভার অয়েল ইত্যাদি।এছাড়া সিরিল,রুটি,দুধ,কমলার রস।

খাদ্য তালিকায় রাখা আবশ্যক-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভিটামিন ডি এর পরিমাণ নির্ধারণ করতেে লেবেল চেক করুন। আপনি যদি গর্ভবতী হন, ভিটামিন ডি সম্পূরক গ্রহণ সম্পর্কে আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে নিন এবং নির্দেশিকাগুলি পালন করুন। যেকোনো শিশুর দৈনিক ৪০০ আই ইউ ভিটামিন ডি পাওয়া উচিত বলে মনে করা হয়।মানুষের মাতৃদুগ্ধে অল্প পরিমানে ভিটামিন ডি থাকে।

তাই যে সব শিশুরা শুধুমাত্র বুকের দুধ খায় তাদের প্রতিদিন পরিপূরক ভিটামিন ডি দেয়া উচিত। আবার যেসব শিশু বোতলের দুধ পান করে তাদেরও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট এর প্রয়োজন হতে পারে যদি তারা তাদের ফর্মুলা দুধ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ডি না পেয়ে থাকে। তবে সব ক্ষেত্রেই আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

হ্যা,রিকেটস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই(বিশেষ করে পুষ্টি জনিত রিকেটস) সময় থাকতে তাড়াতাড়ি ধরা পড়লে নিরাময়যোগ্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, খাদ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট যোগ করে এবং জোরালো সূর্যালোকে অল্প কিছু সময় রেখে এই রোগ নিরাময় করা যেতে পারে। সমস্যাটি কতটা গুরু্তর তার উপর নির্ভর করে, সন্তানের ডাক্তারবাবু রিকেটসের জন্য নিম্নলিখিত এক বা একাধিক চিকিৎসার সুপারিশ করতে পারেন।

খাবারে সম্পূরকের সংযোজন-রিকেটসে ভুগে থাকা শিশুদের খাদ্য তালিকায় মূলত যে দুটি জিনিস সংযোজন এর উপর বেশি নজর দিতে ডাক্তাররা সুপারিশ করেন তা হল- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি। এগুলি সাধারণত খাদ্য বা সম্পূরক হিসেবে উচ্চমাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। সমস্যা তীব্রতা এবং অন্যান্য কারণ এর উপর নির্ভর করে এই ডোজগুলি কয়েক মাস ধরে দেয়া যেতে পারে। একেবারে উচ্চমাত্রার প্রয়োজন না হলে আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ একটি আদর্শ দৈনিক ভিটামিন ডি সম্পূরক সুপারিশ করে থাকেন।

সূর্যের আলো-সূর্যালোকের সংস্পর্শে মানব দেহ স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন ডি সংশ্লেষ করে। তাই আপনার শিশুকে কিছু সময়ের জন্য রোদে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা।

সার্জারি-সাধারণত,সন্তানের হাড়গুলি নিজে থেকেই সোজা হয়ে যায়। তবে কিছু বিশেষ গুরুতর ক্ষেত্রে, বাচ্চাদের হাড়ের বক্রতা ঠিক করার সময় অনেকক্ষেত্রে ব্রেসেস বা ধনুর্বন্ধনী পরতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আবার অস্ত্রপ্চারেরও প্রয়োজন হয়ে থাকে।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য-মাছের তেল, ডিমের কুসুম এবং চর্বিযুক্ত মাছ যেমন-স্যামন এবং ম্যাকেরেল ভিটামিন ডি দ্বারা ভরপুর। দুধ, সিরিয়াল এবং বেশ কিছু ফলের রসেও ভিটামিন ডি ভালো পরিমানে থাকে। তাই এ জাতীয় খাবারগুলি আপনার শিশুকে নিয়ম মেনে খাওয়ানোর নির্দেশ দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রিকেটস

শিশুদের মধ্যে রিকেটস রোগের আলোচনা প্রসঙ্গে আরেকটি যে বিষয় না তুললে আলোচনাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায় সেটি হল-উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রিকেটস। এক্ষেত্রে মূল ব্যাপারটি হল- জেনেটিক ডিস অর্ডার। এটি অবশ্যই  অনেকটাই জটিল। সন্তানের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এর চিকিৎসার জন্য আপনী একজন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন।
হাইপোফসফেটিক রিকেটস হলো এক প্রকারের জেনেটিক রিকেটস। অনেকগুলি জিনের মিউটেশনের ফলে সংঘটিত হয়। এই রোগটিতে অস্থি এবং বৃক্কে ফসফেট এর ক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফসফেট সাপ্লিমেন্ট এবং বিশেষ ধরনের ভিটামিন ডি এর সাহায্যে এর চিকিৎসা করা হয়। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও রিকেটস একটা দুঃস্বপ্ন।
 তবে গর্ভকালীন সময় থেকে গর্ভবতী মায়েরা নিজেদের যত্ন নিন এবং পাশাপাশি শিশুদের উপর সতর্ক নজর জারি রেখে সঠিক সময়ে ডাক্তারের সাহায্যে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। তাতে কিছুটা হলেও রিকেটসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সতর্ক থাকুন এবং আপনার ছোট্রটিকেও সুরক্ষিত ও ভালো রাখুন।

প্রতিরোধের উপায়

রিকেটস প্রতিরোধে সর্বোত্তম উপায় হল শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ করা। আর সূর্যালোকে মানব ত্বক ভিটামিন ডি সংশ্লেষ করতে পারে। তাই বেশিরভাগ ঋতুতে, মধ্যাহ্নের কাছাকাছি সময়ে সূর্যের আলোয় 10 থেকে 15 মিনিট উন্মুক্ত থাকাই যথেষ্ট। তবে আপনার গাত্র বর্ণ যদি কালো হয়, কিংবা যদি শীতকাল হয় অথবা আপনি যদি উত্তর অক্ষাংশে থাকেন, তাহলে আপনি সূর্যের এক্সপোজার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পেতে সক্ষম হবেন না।
শিশুর জন্মের পর থেকে দৈনিক ৪০০ IU ভিটামিন ডি ড্রপ(বিশেষ করে ব্রেস্টফিড শিশু)। গর্ভ অবস্থায় মায়ের ভিটামিন ডি চেক করা দরকার।যাই হোক, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাবের কথা মাথায় রেখে, ত্বকের ক্যান্সারের উদ্বেগ দূর করতে বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলের জন্যই সরাসরি রোধ এড়াতে সর্বদা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
রিকেটস প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া যায়। যদি শিশুর মধ্যে কনো লক্ষণ দেখা যায় তাহলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ বা অর্থোপেডিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সঠিক সময় চিকিৎসা করলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং হাড়ের গঠন ফিরে আসে।

শেষ কথাঃ

রিকেটস একটি প্রতিরোধ যোগ্য রোগ।এটি মূলত ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত হলেও, সময়মতো চিকিৎসা করলে শিশুর হাড় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে এবং স্থায়ী কোন ক্ষতি হয় না। বাংলাদেশের মতো দেশে(বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে) সূর্যের আলো প্রচুর থাকলেও, শিশুদের পুরোপুরি ঢেকে রাখা, শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো, খাবারে বৈচিত্রের অভাব ইত্যাদির কারণে এই রোগ দেখা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা-প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। গর্ভাবস্থায় মা যেন পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পান, শিশুর জন্মের পর থেকে(বিশেষ করে বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের) ডাক্তারের পরামর্শের প্রতিদিন ৪০০IU ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেয়া উচিত(সাধারণত ১ বছর পর্যন্ত)। খাবারে ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার(দুধ, দই, সবজি) যোগ করুন এবং শিশুকে নিয়মিত সূর্যের আলোয়(দিনে ১৫-২০ মিনিট) রাখুন।

যদি শিশুর মধ্যে কোন লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা অর্থপেডিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সময় মতো চিকিৎসা করলে শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।রিকেটসকে ভয়ের কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য এবং প্রতিরোধ করা যায়। শিশুর  সুস্থ হাড় মানে তার ভবিষ্যৎ সুস্থ ও শক্তিশাশী।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url