সোয়াইন ফ্লু কোন ভাইরাসের কারনে হয় লক্ষণ এবংপ্রতিকার

 ব্যয়াম করা শরীরের জন্য খুব ভালো

সোয়াইন ফ্লু বা H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ইতিহাস খুবই আকর্ষণীয় এবং জটিল। ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী মহামারি(প্যান্ডেমিক) হিসেবে আবির্ভূত হয়, ২১শ শতাব্দীর প্রথম ইনফ্লুয়েঞ্জা পান্ডেমিক। কিন্তু এর শিকড় অনেক পুরনো-এমনকি ১৯১৮ সালের কুখ্যাত" স্প্যানিশ ফ্ল" পান্ডেমিকের সাথে যুক্ত।

সোয়াইন ফ্লু হাঁচিকাশিবা দূষিত জিনিস স্পর্শ করার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়, যার প্রধান লক্ষণগুলো হলো জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথা, প্রতিকার হিসেবে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ(যেমন ওসেল্টামিভির) সেবন এবং প্রতিরোধে টিকা ও স্বাস্থ্যবিধি জরুরি।

পোস্ট সূচীপত্রঃ সোয়াইন স্লো কোন ভাইরাসের কারণে হয়

  • উৎপত্তি এবং ভাইরাসের বিবর্তন
  • ২০০৯ সালের মহামারীর শুরু এবং ছড়িয়ে পড়া
  • ছড়িয়ে পড়ার কারণ
  • লক্ষণসমূহ
  • রোগ নির্ণয় ও সোয়াইন ফ্লোর কি কোন টিকা আছে
  • চিকিৎসা
  • সোয়াইন ফ্লোর ঘরোয়া প্রতিকার এবং নিজের যত্ন
  • শেষ কথা

সোয়াইন ফ্লু কোন ভাইরাসের কারণে হয়

সোয়াইন ফ্ল ইনফ্লুয়েঞ্জা এ(Influenza A) ভাইরাসের H1N1 সাপ টাইপ দ্বারা সৃষ্ট।এটি একটি অর্থোমিক্সোভাইরিডে পরিবারের ভাইরাস।২০০৯ সালের স্ট্রেনটি ছিল শূকর,পাখি এবং মানুষের ব্লু ভাইরাসের জিনের মিশ্রণ(reassortment) থেকে উদ্ভূত। এটিকে "swine-origin influenza A (H1N1)" বলা হয়।
  • সোয়াইন ফ্লকে সাধারণত H1N1 influenza virusবাA(H1N1) দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
  • এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা A টাইপের ভাইরাস, যা প্রথমে শুকরের মধ্যে দেখা যেত। ২০০৯ সালের বিশ্বকাপে মহামারীতে এই ভাইরাসটি নামেও পরিচিত মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে
  • ভাইরাসের নামের H1N1 অংশটি আসে ভাইরাসের পৃষ্ঠের দুটি প্রোটিন থেকে:Hemagglutinin (H1)এবংNeuraminidase (N1)।
  • শূকরে এ ভাইরাসের অন্যান্য সাবটাই ও থাকে যেমন H3N2বাH1N1, কিন্তু মানুষের মধ্যে যে সোয়াইন ফ্লু সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং মহামারী ঘটিয়েছে, সেটি হল H1N1।
  • বর্তমানে এইH1N1 ভাইরাস মৌসুমী ফ্লোর একটি অংশ হয়ে গেছে এবং সাধারণ ফ্লু ভ্যাকসিনে এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা থাকে।

উৎপত্তি এবং ভাইরাসের বিবর্তন

১. ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু থেকে শুরু:H1N1 ভাইরাসের মূল উৎস পাখি(avian origin) থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়। ১৯১৮-১৯২০ সালের স্প্যানিশ ফ্লু পান্ডেমিকে এই ভাইরাস মানুষ এবং শুকর উভয়কেই আক্রান্ত করে। এটি বিশ্বে ৫০-১০০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটায়। এরপর ভাইরাসটি শুকরদের মধ্যে" ক্লাসিক্যাল সোয়াইন H1N1" হিসেবে স্থায়ী হয়ে যায়।

২. ১৯৯০-এর দশকে রি-অ্যাসর্ট্মেন্ট: উত্তর আমেরিকার শুকরদের মধ্যে তিনটি ভিন্ন ফ্ল ভাইরাসের  জিন মিশে "ট্রিপল রি-অ্যাসর্ট্যান্ট"ভাইরাস তৈরি হয়-পাখি,শূকরএবং মানুষের ফ্লু থেকে। এছাড়া ইউরেশিয়ান শুকরের ফ্ল পুরো ভাইরাস ও মিশে যায়।

৩.২০০৮-২০০৯ সালে নতুন স্ট্রেনের উদ্ভব: গবেষণা(CDC,WHOএবংScience জার্নাল) অনুসারে, এই নতুনH1N1 ভাইরাস মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় একটি ছোট অঞ্চলের শূকরদের মধ্যে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি সময়ে উদ্ভূত হয়। এটি চারটি ভিন্ন লাইনেজের জিনের মিশ্রণ: উত্তর আমেরিকান ট্রিপল রি-অ্যাসর্ট্যান্ট, ক্লাসিক্যাল সোয়াইন, ইউরেশিয়ান সোয়াইন এবংঅ্যাভিয়ান। এর ফলে ভাইরাসটি মানুষে সহজে সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা লাভ করে।

২০০৯ সালের মহামারীর শুরু এবং ছড়িয়ে পড়া

  • প্রথম কেস: ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে মেক্সিকোর ভেরাক্রূজ প্রদেশের লা গ্লোরিয়া গ্রামে প্রথম আউটব্রেক দেখা যায়। একটি ছোট ছেলেকে" পেসেন্ট জিরো" বলে মনে করা হয়। ৫ বছরের একটি ছেলে এডগান হার্নান্দেজ, যার অসুস্থতা মার্চ ২০০৯-এ সনাক্ত হয়। সে সুস্থ হয়ে যায়, কিন্তু এটি প্রথম নথিভুক্ত মানব সংক্রমণ।
  • এপ্রিলে মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে (ক্যালিফোর্নিয়া) ল্যাবে নিশ্চিত হয় যে এটি একটি নতুন সোয়াইন- অরিজিন H1N1 ভাইরাস। এপ্রিল ২০০৯ এ ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি শিশুর মধ্যে ভাইরাসটি সনাক্ত হয় যা-CDC(Centers for Disease Control and Prevention)নিশ্চিত করে।
  • মেক্সিকোতে দ্রুত ছড়ানো: মার্চ-এপ্রিলে মেক্সিকো সিটি এবং অন্যান্য অঞ্চলে হাজার হাজার কেস দেখা যায়। এপ্রিলের মাঝামাঝি মেক্সিকোতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
  • দ্রুত ছড়িয়ে পড়া: বিমান ভ্রমণের কারণে ভাইরাসটি অভূতপূর্ব গতিতে ছড়ায়। জুন ২০০৯ এ WHO পান্ডেমিক লেভেল ৬ ঘোষণা করে( সর্বোচ্চ স্তর)।জুন ১১,২০০৯ WHO পান্ডেমিক অ্যালার্ট লেভেল ৬ ঘোষণা করে (পূর্ণ মহামারি )।ততদিনে ৭৪ টি দেশে ল্যাব-নিশ্চিত কেস ছিল।
  •  আগস্ট ১০, ২০১০:WHO মহামারী শেষ ঘোষণা করে। ভাইরাসটি এখনো সিজিনাল ফু হিসেবে সার্কুলেট করে। মেক্সিকো সিটিতে স্কুল,থিয়েটার ইত্যাদি বন্ধ করা হয়। ভাইরাসটির নতুন ট্রেন হয় মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল, বিশেষ করে যুবক এবং শিশুদের মধ্যে ।
  • মে ২০০৯: ইউরো(প স্পেন), এশিয়া এবং অন্যান্য দেশে কে সনাক্ত হয়। বাংলাদেশে প্রথম কেস জুন ২০০৯ এ( যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত এক যুবক)।
  • জুলাই-আগস্ট ২০০৯: উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালেও সংক্রমণ বাড়ে(সাধারণ ফ্লু শীতকালে বাড়ে।)। দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকালে তীব্র পাদুর্ভাব।
  • ২০০৯-এর শেষ থেকে ২০১০: দ্বিতীয় ওয়েব আসে, কিন্তু ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আসে।

ছড়িয়ে পড়ার কারণ

১.  স্বাস্থ্য- সম্পর্কিত ভয় এবং উদ্বেগ(Fear & Concern): কয়েন প্রো একটি সংক্রামক রোগ, যা ২০০৯ -এ মহামারী হয়েছিল। সম্প্রতি( ২০২৪-২০২৫) ভারতে (দিল্লি, কেরালা, মহারাষ্ট্র ইত্যাদি)H1N1-এর কেস বেড়েছে (২০০০০+ আক্রান্ত, শত শত মৃত্যু)। বাংলাদেশেও ইনফ্লুয়েঞ্জা/ভাইরাল ফিভারের সার্জ দেখা গেছে। এতে লোকে ভয় পায় এবং" অন্যদের সতর্ক করতে" শেয়ার করে- এটি সবচেয়ে বড় ট্রিগার।

২. উপকারী এবং শিক্ষামূলক কনটেন্ট(Useful Information): পোস্টে সাধারণত সহজ ভাষায় লক্ষণ(জর, কাশি, গলা ব্যথা ইত্যাদি) কারণ H1N1ভাইরাস) এবং প্রতিকার(মাক্স, হাত ধোয়া, ভ্যাকসিন) দেয়া থাকে। লোকে মনে করে এটি শেয়ার করলে পরিবার- বন্ধুদের সাহায্য হবে, তাই দ্রুত ফরওয়ার্ড করে।

৩.সিজনাল টাইমিং(Seasonal Relevance): ঈদ বা মৌসুম পরিবর্তনের সময় ফ্লু বাড়ে.২০২৫-২০২৬ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা অ্যাকটিভিটি বেড়েছে (WHO রিপোর্ট অনুসারে)। খবরে আউটব্রেকের নিউজ আসলে এ ধরনের পোস্ট পুরনো হলেও আবার ভাইরাল হয়।

৪. সহজ শেয়ারযোগ্য ফরম্যাট: ছোট টেক্সট, ট লিস্ট বাই ইমেজ-ভিত্তিক পোস্ট (ইনফোগ্রাফিক্স) সহজে ফরওয়ার্ড হয়। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা ফেসবুকে" সতর্কতা" হিসেবে ছড়ায়

৫. সোশ্যাল প্রুফ এবং চেইন রিয়াকশন: একজন শেয়ার করলে অন্যরা দেখে" আমিও করি"-বিশেষ করে পরিবার গ্রুপে। কখনো ভুয়া বা অতিরঞ্জিত তথ্য মিশিয়ে(যেমন ঘরোয়া টোটকা)আরও ছড়ায়। এটি ছাড়া আর কারণ এতে ভয়+ উপকারিতা+ সময়োপযোগিতা মিলে যায়। 

  • উড়োজাহাজ ভ্রমণ: আধুনিক যাতায়াতের কারনে ভাইরাসটি অভূতপূর্ব গতিতে বিশ্বজুড়ে ছড়ায়।
  • উচ্চ সংক্রামকতা: ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি সংক্রমণ( কাশি,হাঁচি দিয়ে) খুব সহজে হয়।
  • যুবকদের বেশি আক্রান্ত: বয়স্কদের মধ্যে পুরনো H1N1-এর প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায় তারা কম আক্রান্ত হয়।
প্রভাবঃ
  • ল্যাব-নিশ্চিত কেস: প্রায় এক মিলিয়নের বেশি।
  • অনুমানিক সংক্রমণ: বিশ্বের ১১-২১% জনসংখ্যা(৭০০ মিলিয়ন থেকে ১.৪ বিলিয়ন)।
  • মৃত্যু:WHO-এর অনুমানে ১৫০,০০০ থেকে ৫৭৫,০০০(অধিকাংশ যুবক)। তবে এই মহামারী থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে ভ্যাকসিন দ্রুত তৈরি এবং সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে।

লক্ষণসমূহ

সোয়াইন ফ্লোর লক্ষণগুলো সাধারণ মৌসুমী ফ্লর মতই কিন্তু কখনো কখনো আরও তীব্র হতে পারে। লক্ষণগুলো সংক্রমণের ১-৪ দিন পর শুরু হয় এবং ৩-৭ দিন স্থায়ী হয়। প্রধান লক্ষণগুলো-
  • শুকনো কাশি (কফ সহ)।
  • উচ্চ জ্বর (সাধারনত ১০০ ডিগ্রি F বা তার বেশি, হঠাৎ করে শুরু হয়) এবং ঠান্ডা লাগা (chills বা rigors)।
  • গলা ব্যথা (sore throat)।
  • নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ (runny or stuffy nose,rhinorrhea)।
  • শরীরে ব্যথা,মাংসপেশিও জয়েন্ট (muscle aches বা myalgia)।
  • মাথাব্যথা (severe headache)।
  • ঠান্ডা লাগা এবং কাঁপুনি
  • অত্যধিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা (fatigue বা weakness)।
  • ক্ষুধামন্দ্য (loss of appetite)।
  • কখনো বমি বা ডায়রিয়া ,( vomiting and diarrhea)-এটি সাধারণ ফ্লুর চেয়ে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে
  •  শ্বাসকষ্ট বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট(shorttness of breath)যদি দেখা যায় তাহলে গুরুতর।
  • অন্যান্য: চোখ লাল হওয়া, চোখে জালা ইত্যাদি( কম সাধারণ)।
গুরুতর লক্ষণ(যদি দেখা যায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিন):
  • বুকে বা পেটে তীব্র ব্যথা
  • শ্বাস নিতে খুব কষ্ট
  • হঠাৎ মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি
  • অতিরিক্ত বমি
  • শিশুদের ক্ষেত্রে: দ্রুত শ্বাস, তরল কম খাওয়া, জ্বরের সাথে খিচুনি, অসাড় হয়ে পড়া ইত্যাদি।
শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে গুরুতর লক্ষণ: শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দ্রুত শ্বাস, নিলাভ ত্বক, পানি শূন্যতা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লো বা অন্যান্য ভাইরাল ইনফেকশন এর সাথে মিলে যায়, তাই নিশ্চিত করতে ডাক্তারের কাছে গিয়ে নাক-গলার সব টেস্ট( যেমন PCR বা rapid test)  করানো উচিত।
 বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া ও প্যারাসিটামল দিয়ে সেরে যায়। যদি লক্ষণ গুলো দেখা যায়, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপে(গর্ভবতী মহিলা, শিশু, বয়স্ক, ডায়াবেটিস বা হাঁপানি রোগী,)জন্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ (যেমন Oseltamivir/Tamiful)দরকার হতে পারে। এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রোগ নির্ণয় ও সোয়াইন ফ্লোর কি কোন টিকে আছে?

একজন ডাক্তার পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) পরীক্ষা ব্যবহার করে নির্ধারণ করতে পারেন যে কোন ও ভাইরাস আপনার লক্ষণ গুলির কারণ কিনা অথবা অন্য কোনও অবস্থা যেমন- হার্ট ফেইলিওর, নিউমোনিয়া এনসেফালাইটিস, বা অঙ্গ ফেইলিওর,দায়ী কিনা। ফ্লু নির্ণয়ের জন্য, আপনার ডাক্তার বা নার্স আপনার নাক বা গলা সোয়াব করে তরল নমুনা দিতে পারেন। তারপর এই নমুনাটি বিভিন্ন জেনেটিক এবং ল্যাবরেটরি কৌশল ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করা হয় নির্দিষ্ট ভাইরাসের ধরন সনাক্ত করার জন্য।

২০০৯ সালে H২০০৯N1প্রাদুর্ভাবের পর, বিজ্ঞানীরা এ ভাইরাস থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য একটি টিকা তৈরি করেছিলেন। তারপর থেকে, H1N1 সুরক্ষা সাধারন মৌসুমী ফ্লু ঠিকাদানের মধ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবছর, বিশেষজ্ঞরা অনুমান করার চেষ্টা করেন যে কোন ফ্লু ভাইরাসের স্ট্রেনগুলি ফ্লু ঋতু জুড়ে প্রচলিত থাকবে, বা সাধারণ শীতকালে সর্বোচ্চ হয়। তারপরে তারা এমন ধরনের সংক্রমণের উপর ভিত্তি করে টিকা তৈরি করে যা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

 চিকিৎসা

সোয়াইন ফ্লু নিরাময় যোগ্য, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজে থেকে সেরে যায়। সোয়াইন প্র আক্রান্তদের বেশিরভাগ এরই ওষুধের প্রয়োজন হয় না। শুরু থেকে শারীরিক সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি না থাকলে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজন নেই। তবে, আপনি যদি আপনার লক্ষণগুলোর চিকিৎসা এবং H1N1 এর বিস্তার সীমিত করার দিকে মনোনিবেশ করেন তবে এটি সাহায্য করবে। সার্জারির মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)ফ্ল চিকিৎসার জন্য চারটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ অনুমোদন করেছে-
  • ওসেলটামিভির (টামিফ্ল)
  • জানামিভির (রেলেঞ্জা)
  • পেরামিভির (র‍্যাপিভাব)
  • বালোক্সাভির (জোফ্লজা)
এর মধ্যে,ওসেলটামিভির (ট্যামিফ্ল)এবং জানামিভির ( রেলেঞ্জা) সাধারণত সোয়াইন ফ্লোর চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হয় তবে, ফ্লু ভাইরাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরীর সম্ভাবনার কারণে এই ওষুধগুলো সাধারণত গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সুপারিশ করা হয়। বেশিরভাগ লোকই যথেষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াই H1N1 থেকে পুনরুদ্ধার করে।

যাইহোক, বিরল পরিস্থিতিতে, একজন ডাক্তার একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ লিখে দিতে পারেন। এই ওষুধগুলি লক্ষণগুলির দৈর্ঘ্য এবং তীব্রতা কমাতে পারে। জটিলতা অনুভব করা ব্যক্তিদের জন্য, অথবা রুহু সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই অবিলম্বে প্রয়োজন হতে পারে।

সোয়ান ফ্লোর ঘরোয়া প্রতিকার এবং নিজের যত্ন

সোয়াইন ফ্লু প্রায়শই বাড়িতে বিশ্রাম,জলয়োজন এবং ব্যথা নাশক ঔষধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। চরম ক্ষেত্রে, একজন ডাক্তার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ লিখে দিতে পারেন।
  • বিশ্রাম নিন।
  • জলয়োজিত থাকার :পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর তরল পানি,জুস এবং উষ্ণ স্যুপ পান করুন।
  • ব্যাথা ব্যবস্থাপনা: ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুসারে, জ্বর কমাতে এবং শরীরের ব্যথা কমাতে অ্যাসিটামিনোফেন (টাইলেনল) বা আইবুপ্রোফেন (অ্যাডভিল)ব্যবহার করুন।
  • হাত স্বাস্থ্যবিধি: সংক্রমনের বিস্তার রোধ করতে, বিশেষ করে কাশি বা হাঁচির পরে, ঘন ঘন হেন্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। আপনার ফোন এবং ট্যাবলেটগুলি জীবাণুমুক্ত করুন, কারণ ভাইরাসগুলি এই পৃষ্ঠগুলিতে বাস করতে পারে।
  • কাশি শিষ্টাচার: হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় আপনার নাক এবং মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন।
  • আপনার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করুন: সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ফলমূল, শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন এবং খাদ্য গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত ঘুম পান, কারণ শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতার জন্য বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন: ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে কাজ বা স্কুল এড়িয়ে বাড়িতে থাকুন এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ সীমিত করুন।
  • অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ:Oseltamivir (tamiflu)Zanamivir(Relenza)- লক্ষণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করলে সবচেয়ে কার্যকর। গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে অক্সিজেন বা অন্যান্য সাপোর্ট।
প্রতিরোধের উপায়( সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
  • বার্ষিক ফ্লু ভ্যাকসিন নিন( H1N1অন্তর্ভুক্ত)। 
  • হাত নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিন(কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড)।
  • হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কোনই দিয়ে মুখ ঢাকুন।
  • মার্ক্স করুন ঘনিষ্ঠ স্থানে।
  • অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ান।
  • চোখ-নাক-মুখ স্পর্শ করবেন না। 

শেষ কথাঃ

সোয়াইন ফ্ল বা H1N1 ভাইরাসটি এখন আর কোন নতুন বা অতি ভয়ংকর ভাইরাস নয়। ২০০৯-২০১০ সালের মহামারীর পর WHO ২০১০ সালের আগস্টে এটিকে পান্ডেমিক শেষ ঘোষণা করে। এখন এই ভাইরাসটি সাধারণ মৌসুমী ফ্লু (seasonal flu) এর একটি অংশ হয়ে গেছে। প্রতি বছরের ফ্লু ভ্যাকসিনে এই ট্রেন অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা মানুষকে সুরক্ষা দেয়।

যারা ২০০৯ সালে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই প্রাকৃতিক ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। ফলে এখন এটি সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জ এর মতই আচরণ করে-অর্থাৎ কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়, কিন্তু পুরো বিশ্বকে আবার মহামারির মতো আতঙ্কিত করে না। সোয়াইন ফ্লু শুধুমাত্রH1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাসের কারণে হয়।

যা শুকর থেকে উদ্ভূত হলেও এখন মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং নিয়মিত ফ্ল ভ্যাকসিন+ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে এই থেকে সহজেই সুরক্ষা পাওয়া যায়। আতঙ্কের কিছু নেই, তবে ফ্লোর মৌসুমে সতর্কতা অবশ্যই অবলম্বন করা উচিত এবং প্রয়োজন অনুসারে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url