ক্যান্সারের কারন,লক্ষণ এবং প্রতিরোধ কি

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।

ক্যান্সার একটি গুরুতর রোগ যা শরীরের কোষগুলোর অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে হয়। স্বাভাবিক কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, বিভাজিত হয় এবং প্রয়োজন শেষ হলে মরে যায়। কিন্তু ক্যান্সার কোষগুলো এই নিয়ম মানে না-এরা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, আশেপাশের টিস্যু ধ্বংস করে এবং অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে(মেটাস্ট্যাসিস)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে, ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশে ও প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সুসংবাদ হল প্রায় ৩০-৫০% ক্যান্সার প্রতিরোধ যোগ্য এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

পোস্ট সূচীপত্রঃ ক্যান্সারের প্রধান কারণ সমূহ

  • ক্যান্সার কি
  • ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ সমূহ
  • বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ
  • ক্যান্সারের চিকিৎসা
  • সহায়ক চিকিৎসা
  • অন্যান্য চিকিৎসা
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে কিছু উপায়
  • প্রধান প্রতিরোধের উপায়
  • শেষ কথা

ক্যান্সারের প্রধান কারণ সমূহ

ক্যান্সারের সঠিক একক কারণ নেই, বরং একাধিক ঝুঁকি ফ্যাক্টর একসাথে কাজ করে। প্রধান কারণগুলো হলো-
১. তামাক ও ধূমপান: ফুসফুস, মু্‌খ, গোল্‌ খাদ্যনালী, অগ্নাশয়, মহাশয়ের ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় কারণ। বাংলাদেশে জর্দা, সুপারি, গুল, খৈনি ইত্যাদি তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার অনেক বেশি।
২. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লাল মাংস, লবণাক্ত খাবার, কম ফল-সবজি খাওয়া। ফাইবার কম খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
৩. স্থুলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: অতিরিক্ত ওজন স্তন,জরায়ু,কোলন, কিডনি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৪.  HPV (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) জরায়ুমুখ ক্যান্সার,হেপাটাইটিস  B/C লিভার ক্যান্সার,H.pylori পাকস্থলীর ক্যান্সার ঘটাতে পারে।
৫. অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন-লিভার, মুখ, গলা, স্তন ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. পরিবেশগত ও রাসায়নিক কারণ-অতিবেগুনি রশ্মি(UV) থেকে ত্বক ক্যান্সার,অ্যাসবেস্টস, বেনজিন, আর্সেনিক(বাংলাদেশের কিছু এলাকায় পানিতে আসেনি)।
৭.জেনেটিক/বংশগত কারণ- BRCA1/BRCA2 জিনের মিউটেশন স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি।
৮. বয়স-বয়স বাড়ার সাথে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ কোষের ক্ষতি জমা হয়।

ক্যান্সার কি

বিশ্বের যত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তার ১২ ভাগ হয় ক্যান্সারের কারণে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ক্যান্সারকে যথাক্রমে মৃত্যুর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যান্সার হলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চারপাশের টিস্যু এমন কি দূরবর্তী কোনো অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরিণতিতে আক্রান্ত ব্যক্তি এক পর্যায়ে মৃত্যুবরণ করে।আমাদের দেশে স্তন,জরায়ু,অন্ত্রনালী,প্রোস্টেট,ফুস্ফুস,পাকস্থলী,ডিম্বাশয়, যকৃ্‌ত,অন্ননালী, প্রভৃতি অঙ্গের ক্যান্সার প্রায়ই পরিলক্ষিত হয়।
 ক্যান্সারের কারণ হিসেবে পান- সুপারি,জর্দা,তামাকপাতা,ধুমপান,মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহন, ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য সংস্পর্শ, কিছু কিছু ভাইরাস(হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি,এবস্টেইন বার ভাইরাস,সাইটোমেগালো ভাইরাস) কিছু ফোর জিবি সূর্যকিরণ, তেজস্ক্রিয়তা, কীটনাশক, রঙ্গিন খাবার, বায়ু দূষণ প্রভৃতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হয়ে থাকে-উপরের কারণগুলো প্রতিহত করতে পারলে, তিন ভাগের এক ভাগ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 ক্যান্সার প্রতিরোধে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলুন। এসব নিয়মের মধ্যে সুপারি, জর্দা, তামাক পাতা, ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম করে শরীরকে সচল রাখা। সব ধরনের তেজস্ক্রিয়তা এড়িয়ে চলা। পেশাগত কারণে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকলে প্রটেকশন নিয়ে কাজ করা।(যেমন- "হেপাটাইটিস বি" টিকা লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে)।

রঙ্গিন খাদ্য ও পানীয়, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ এবং কসমেটিক বর্জন করা। সর্বোপরি খাদ্য, ওষুধ ও কসমেটিক ব্যবহারের সতর্কতা অবলম্বন করা। পর্যাপ্ত উদ্ভিজ খাবার(শাকসবজি, ফলমূল) এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা। খাবারে অতিরিক্ত লবণ বর্জন করা। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা বা এড়িয়ে চলা যেসব  অসুখ থেকে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে সেগুলোর দ্রুত চিকিৎসা করানো। 

ধূমপান, মাদকবিরোধী আইন মেনে চলা অথবা বাস্তবায়ন করা। ক্যান্সারের কারণ, প্রতিরোধ, দ্রুত ক্যান্সার নির্ণয় এবং ক্যান্সারের পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার মাধ্যমে  জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। দ্রুত ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে ঘাতক ব্যাধি মুক্ত করা সম্ভব। তাই ক্যান্সারের লক্ষণ জানতে পারলে শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ সমূহ

ক্যান্সারের লক্ষণ ক্যান্সারের ধরন ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়ই কোন লক্ষণ থাকে না, তাই সচেতনতা জরুরি। সাধারণ সতর্কতা সংকেত-
(Warning Signs):
  • অব্যক্ত ওজন হ্রাস: কোন কারন ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ক্যান্সারের একটি লক্ষণ(৬ মাসে ৫-১০ কেজি কমা)
  • অবিরাম ক্লান্তী: শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভব করা একটি গুরুতর লক্ষণ।
  • রক্তপাত: মল, প্রস্রাব বা অন্য কোন স্থান থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাত ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে 
  • দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্ট: যদি ৩ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাশি থাকে এবং এটি সাধারন ওষুধে ভালো না হয়, তবে এটি ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
  • অস্বাভাবিক গণ্ড বা ফোলা: শরীরের যে কোন জায়গায় অস্বাভাবিক গন্ড বা ফোলা দেখা দিলে  তা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
  • পেটে ব্যথা: পেটে ব্যথা, পেট ফোলা, বা হজমে সমস্যা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
  • ত্বকের পরিবর্তন: ত্বকের রং বা আকারে পরিবর্তন, তিলের আকার বা রঙ্গে পরিবর্তন ইত্যাদি ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
  • হাড়ে ব্যথা: হাড়ে ব্যথা, ফোলা বা ভাঙ্গা হাড় ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
  • গিলতে সমস্যা: খাবার দিতে সমস্যা হওয়া বা গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হওয়া ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ

  • স্তন ক্যান্সার-স্তনে গণ্ড, স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, স্তন থেকে রক্তপাত ইত্যাদি
  • ফুসফুসের ক্যান্সার-দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, ইত্যাদি
  • প্রোস্টেট ক্যান্সার-প্রস্রাবের সমস্যা, প্রস্রাবের রক্ত দেখা,
  • রক্তের ক্যান্সার-জ্বর, রাতে ঘাম, ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ ইত্যাদি।
যদি আপনার এই ধরনের কোন লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা হলে চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ক্যান্সারের চিকিৎসা

ক্যান্সারের চিকিৎসা বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যেমন-
১. অস্ত্রপ্রচার : যে জায়গাটি ক্যান্সার আক্রান্ত হয় সেটির ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো এবং তার আশেপাশের কোষগুলোকে অস্ত্র প্রচারের মাধ্যমে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়। ক্যান্সার যদি অল্প একটু জায়গা জুড়ে থাকে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়।
২. রেডিওথেরাপি: নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরের অংশবিশেষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করে সে জায়গার কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়।
৩. কেমোথেরাপি: এই ব্যবস্থা ক্যান্সার কোষ কে ধ্বংস করতে এন্টি ক্যান্সার স বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ৫০টির ও বেশি ধরনের কেমন কেউ থেরাপি ওষুধ রয়েছে। এগুলোর কোন কোনটা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল হিসেবে খেতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ওষুধগুলোকে স্যালাইনের সাথে বা অন্য কোনভাবে সরাসরি রক্ত দিয়ে দেয়া হয়। রক্তের সাথে মিশে এই ওষুধগুলো শরীরের যে কোন যেখানে সেখানে ক্যান্সার কোষ রয়েছে সেখানে গিয়ে ক্যান্সার কোষ গুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।
৪. হরমোন থেরাপি: শরীরের কিছু হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করার মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হয়। শরীরের বৃদ্ধির সাথে হরমোনের একটা সম্পর্ক রয়েছে। কোন কোন ক্যান্সার এই হরমোনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। ফলে ক্যান্সার কোর্সের বৃদ্ধি কমিয়ে ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হরমোন থেরাপি ব্যবহৃত হয়।

সহায়ক চিকিৎসা

চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মানুসিক চিকিৎসার ব্যাপারে এখন জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীরা বেশ মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যান, অনেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গেও পারেন। এ কারণে অনেক সময় তাদের অবস্থা বেশি গুরুতর না হলেও অনেকে দ্রুত মারা যান। ফলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন সংগঠন কাজও করে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যান্সার আক্রান্তদের একটি গ্রুপ গঠন করা, যেখানে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করতে পারেন। এর পাশাপাশি যোগ, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমে রোগীদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার শিক্ষা দেয়া হয়। এর পাশাপাশি মানসিক স্বস্তির জন্য কেউ যদি ধর্মীয় বা সামাজিক কোনো কাজে নিয়োজিত হতে চান সে ব্যাপারে ও তাদেরকে উৎসাহ দেয়া হয়।

অন্যান্য চিকিৎসা

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলে এ ধরনের ওষুধ তৈরির ব্যাপারে এখন গবেষণা চলছে। এছাড়াও ক্যান্সারের ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনো এগুলো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দেশে-বিদেশে এ ক্যান্সারের ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারেও অনেক চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন গবেষক গবেষণা করে ক্যান্সারের প্রতিরোধের ভ্যাকসিনের বিষয়ে ভরসা দিচ্ছন।

ক্যান্সার প্রতিরোধে কিছু উপায়

১.সুস্থ জীবন যাপন : সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও মধ্যপান পরিহার ইত্যাদি.
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার সনাক্ত করা সম্ভব
  • সচেতনতা বৃদ্ধি: ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলি সম্পর্কে জানা দরকার
২.তামাক ও ধূমপান সম্পূর্ণ পরিহার করুন: ধূমপান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যান্সারের কারণ(ফুসফুস, মুখ, গলা, খাদ্যনা্লী, অগ্ন্যাশয়, মুত্রাসয় ইত্যাদি)
  • দ্বিতীয় হ্যান্ড স্মোক:(প্যাসিভ স্মোকিং) এড়িয়ে চলুন
  • জর্দা, গুল, সাদা পাতা, হুক্কা-সব ধরনের তামাক জাত পণ্য বন্ধ করুন
৩. অ্যালকোহল সেবন কমান বা বন্ধ করুন: অতিরিক্ত মদ্যপান-লিভার, স্তন,মুখ,গলা,কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
  • সবচেয়ে নিরাপদ: একদম না খাওয়া। যদি খান তাহলে পুরুষের জন্য দিনে ২ ইউনিটের বেশি নয়, মহিলার জন্য ১ ইউনিট
৪. নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ করুন: সপ্তাহে কমপক্ষে১৫০-৩০০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম(হাটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার) অথবা ৫৭-১৫০ মিনিট জোরালো ব্যায়াম
  • বসে থাকার সময় কমান(দিনে ৮ ঘন্টার বেশি বসে থাকলে ঝুঁকি বাড়ে)
৫. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন: অতিরিক্ত ওজন-স্তন,জরায়ু,কোলন,কিডনি,অগ্ন্যাশয়, খাদ্যনালী ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়।
  • BM1 ১৮.৫-২৪.৯ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন
৬. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন: প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল(দিনে ৫+সার্ভিং) আস্ত শস্য(ভাত/রুটির পরিবর্তে লাল চাল/গম) ডাল, বাদাম খান
  • লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস(সসেজ, বিরিয়ানির মাংস, হটডগ) কম খান
  • চিনি-মিষ্টি পানীয়, ফাস্টফু্‌ড, অতিরিক্ত লবণ ও ভাজাপোড়া কমান
  • ক্যান্সার প্রতিরোধী খাবার: ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, রসুন, পেঁয়াজ, হলুদ, টমেটো, বেরি জাতীয় ফল
৭. সূর্যের অতিরিক্ত রশি থেকে সুরক্ষা নিন: সকাল১০টা-বিকেল ৪টার মধ্যে সরাসরি রোদ এড়ান
  • সানস্ক্রিন (SPF৩০+)টুপি, ফুলহাতা কাপড় ব্যবহার করুন
৮. ভ্যাকসিন নিন(বিশেষ করে HPVও Hepatitis B)
  • HPV ভ্যাকসিন-জরায়ুমুখ,গলা,যৌনাঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে(-মেয়ে ছেলে উভয়ের জন্য ৯-২৬ বছর বয়সে সবচেয়ে কার্যকর)
  • হেপাটাইটিস B ভ্যাকসিন-লিভার ক্যান্সার কমায়।
৯. নিয়মিত স্ক্রিনিং করান (আর্লি ডিটেকশন=প্রতিরোধের অংশ)
  • জরায়ুমুখ ক্যান্সার: ২৫-৬৫ বছর,HPV  টেস্ট প্রতি ৫বছর
  • স্তন ক্যান্সার: ৪০-৭৫বছর,ম্যামোগ্রাম প্রতি ১-২ বছর
  • কোলন ক্যান্সার: ৪৫+ কলোনোস্কোপি/স্টুল টেস্ট
  • ফুসফুস ক্যান্সার: যারা অনেক ধূমপান করেছেন-LDCT স্ক্যান (ডাক্তারের পরামর্শে)

প্রধান প্রতিরোধের উপায়

  1. ধূমপান/তামাক ছাড়া -৮০-৯০% কম
  2. অ্যালকোহল কম/বন্ধ- ৫-১৫% কম
  3. স্বাস্থ্যকর ওজন+ ব্যায়াম- ১০-২০%কম
  4. উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য- ৫-১৫%কম
  5. HPV/Hep B ভ্যাকসিন-৭০-৯০%কম 
  6. স্ক্রিনিং  - মৃত্যু ২০-৬০% কম
সবচেয়ে বড় কথা হলো-ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন, যেমন-ধূমপান ছাড়া, প্রতিদিন ৩০ মিনিটে হাটা, বেশি শাক-সবজি খাওয়া। এগুলো একসাথে করলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

শেষ কথাঃ

ক্যান্সার আর মৃত্যুর রোগ নয়।, প্রাথমিক অবস্থায় (Early Stage) ধরা পড়লে এটি ৮০- ৯০% ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সারানো যায়। তাই লক্ষণ দেখা মাত্রই অবহেলা করবেন না। দেরি করবেন না। অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে,পরীক্ষা--নিরীক্ষা করান। প্রতিরোধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র-ধূমপান, তামাক, জর্দা,সুপারি, অতিরিক্ত মদ্যপান সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার (শাক-সবজি, ফলমূ্‌ল, আঁশযুক্ত খাবার) খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখু্‌ন,HPV/Hepatitis B টিকা দি্ন, (যেখানে প্রযোজ্য), এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং/চেকআপ করান। সচেতনতা+ সময়মতো চিকিৎসা= হারানো সম্ভব। যদি আপনার পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে বা কোন লক্ষণ দেখা যায় (ওজন কমা, বিল্টের অসুবিধা, অস্বাভাবিক রক্তপাত ইত্যাদি। তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। আসুন সবাই মিলে এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করি।







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url